
জাফলংয়ের ইসিএ এলাকায় রাতের আঁধারে ব
নিজস্ব প্রতিবেদক, জাফলং:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত বল্লাঘাট নদীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের অভিযোগে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। এলাকাবাসী, শ্রমিক, নৌকা মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নিষিদ্ধ এলাকা থেকে বালু-পাথর উত্তোলন করে আসছে এবং এ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন যানবাহন ও নৌযান থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বল্লাঘাট নদীর বিভিন্ন অংশে নৌকা ও যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বালু-পাথর উত্তোলনের কার্যক্রম চলে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করে উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বালু-পাথর বহনকারী প্রতি গাড়ি থেকে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া নৌকা ও অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম থেকেও নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বল্লাঘাট বালু-পাথর উত্তোলন সংগঠনের সভাপতি দেলদুয়ার হোসেন দলুর নেতৃত্বে এবং তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও হারুন মেম্বারের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কষ্ট করে কাজ করি। কিন্তু কাজ করতে গেলেও বিভিন্নভাবে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আমাদের আয় কমে যায় এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইসিএ এলাকা থেকে বালু-পাথর উত্তোলন আইনত নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে রাতের বেলায় নদীতে নৌকা ও যন্ত্রপাতির চলাচল চোখে পড়ে। তাদের প্রশ্ন, যদি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে, তাহলে কীভাবে এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে?
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, জাফলং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও পরিবেশগত এলাকা। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এতে পর্যটন শিল্পও নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সন্তোষজনক সাড়া পাননি। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেক সময় ফোনে তাদের পাওয়া যায় না। বিট পুলিশ অফিসার রাজিব রায়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসীর মতে, সাধারণ শ্রমিকদের জীবিকার প্রশ্ন এবং পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন—দুই দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা চান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধ উত্তোলন কিংবা অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নিরীহ শ্রমিকদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করুক। পাশাপাশি ইসিএ এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে অবৈধ উত্তোলন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST