বিশেষ সংবাদদাতা, গোয়াইনঘাট (সিলেট)
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১১নং মধ্য জাফলংয়ের রাধানগর সীমান্ত এলাকা এখন চোরাচালান ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনের বিট অফিসারকে প্রভাবিত করে ও ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে একছত্র আধিপত্য চালিয়ে যাচ্ছেন রিয়াজ নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্র জানায়, রিয়াজ পূর্বে পেশায় একজন সাধারণ সিএনজি চালক ছিলেন। তবে সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারি এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেন। গত ৫ আগস্টের পর তিনি লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরপরই যেন তার হাতে আসে আলাদিনের চেরাগ। বিগত দুই বছরে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া রিয়াজ এখন লাখ লাখ টাকার মালিক।
এলাকাবাসীর দাবি, রিয়াজ একসময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখলেও বর্তমানে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছেন। তার এই সিন্ডিকেটে সরাসরি সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা আইনুল হকসহ একাধিক প্রভাবশালী মুখ। বড় বড় নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতীয় পণ্য ও মাদকের চালান নিয়ে আসছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রিয়াজ চক্রের মাধ্যমে সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স ও মোটরসাইকেল। একই সঙ্গে ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ ও বিভিন্ন উত্তেজক ট্যাবেলেটের মতো মারাত্মক মাদক পাচারের সঙ্গেও সে সরাসরি জড়িত। সীমান্তজুড়ে পরিবহন ও পণ্য থেকে প্রতিদিন কাড়ি কাড়ি টাকা চাঁদা তুলে নিজেদের পকেটে ভরছে এই চক্র।
প্রশাসনের চোখের সামনে এমন বেপরোয়া অপকর্ম চললেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রিয়াজকে দল থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন, যাতে তার অপরাধের দায় দল না নেয়। একই সঙ্গে রাধানগর সীমান্তকে অপরাধমুক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রিয়াজ ও তার সহযোগীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গোয়াইনঘাটের সাধারণ এলাকাবাসী।মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST