
রাজু আহমেদ, রাজশাহী : রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার উজালখলসী বিলে ৭০ একর ফসলি জমিতে চলমান অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন। তাঁর এই নির্ভীক পদক্ষেপে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি জোরালো প্রশংসার ঝড় উঠেছে।
শনিবার(১৭ মে) দুপুরের পর অভিযানে যান ইউএনও সাবরিনা শারমিন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা। আগে থেকেই সেখানে ভিড় জমিয়েছিল তাহেরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর কার্ত্তিক শাহার বিপুল সংখ্যক অনুসারী। প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চললেও ইউএনও দৃঢ় কণ্ঠে পুকুর খনন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই খননযন্ত্র ও গাড়ি সরিয়ে নিতে বলেন।
স্থানীয় কৃষকের আশঙ্কা, ওই বিস্তীর্ণ বিলে পুকুর তৈরি হলে বর্ষায় আশপাশের দুইটি গ্রাম তলিয়ে যেতে পারে; জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে শত শত হেক্টর আবাদি জমি। উজালখলসী গ্রামের রহমান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার জমির অনেকটুকু পুকুরে পড়েছে এক পয়সাও পাইনি। ইউএনও খনন বন্ধ করায় আমরা খুবই খুশি।
প্রসঙ্গত, গত বছর ২০২৪ সালের আগস্টে একই স্থানে জোরপূর্বক খননকাজ শুরু হয়, যার নেপথ্যে ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর কার্ত্তিক শাহা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবারও রাতারাতি খনন শুরু হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ইউএনও বেআইনি কার্যক্রমে ছেদ টানলেন।
ইউএনও সাবরিনা শারমিন জানান, অনুমতি ছাড়া কেউ ফসলি জমিতে পুকুর খনন করতে পারবে না। বৈধ পদ্ধতিতে আবেদন করলে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়মভাঙা কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও-র সাহসী হস্তক্ষেপে আবারও রক্ষা পেল দুর্গাপুরের উর্বর কৃষিজমি আর কৃষকরা পেলেন ভরসার নতুন ঠিকানা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST