
বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একদম সন্নিকটে ‘ক্যাম্প-ফায়ার’ নামে একটি বারের অবস্থান ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে। বারটিতে আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি মদ বিক্রি, বেআইনিভাবে পার্সেল সরবরাহ এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে বারটি উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের গাউসুল আজম রোডে ‘মাস্টারমাইন্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ লাগোয়া একটি ভবনে পরিচালিত হতো। সে সময় স্থানীয়দের প্রবল অসন্তোষ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের টানা বিক্ষোভের মুখে বারটি সেখান থেকে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয় মালিকপক্ষ।
তবে পরবর্তীতে উত্তরা মডেল টাউনের বিএনএস ভবন এলাকায় বারটি পুনর্স্থাপন করা হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি এড়ানো যায়নি। বর্তমানে বারটির এক পাশে ‘রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ’ এবং অপর পাশে ‘পরমনি ল্যাবরেটরি স্কুল’ ও ‘ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ অবস্থিত। দেশের শীর্ষস্থানীয় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এত কাছে কোন প্রক্রিয়ায় একটি বার পরিচালনার অনুমোদন পেল, তা নিয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের দাবি, ক্যাম্প-ফায়ার বারটিতে প্রতি রাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে আসা নানা ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ বিক্রি ও পার্সেল সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি অতীতেও এই বারটির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও পতিতাবৃত্তির মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। তদুপরি, বারটির মালিকপক্ষের সাথে যুক্ত ‘জুয়েল’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
শিক্ষা পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বারের এই অবস্থান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন এবং এটি দ্রুত স্থানান্তরের দাবি তুলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যাম্প-ফায়ার বারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মনির মুঠোফোনে জানান, “স্কুল-কলেজগুলো বার থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। আমাদের বিদেশি লিকার বিক্রির সব বৈ প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।” পূর্বে মহল্লার ভেতর বার থাকায় স্থানীয়দের আপত্তিতে তা স্থানান্তর করা হয়েছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (উত্তর বিভাগ) উপপরিচালক শামীম আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শক দেওয়ান মো. জিল্লুর রহমান জানান, নীতিমালার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে তিনি কার্যালয়ে কথা বলবেন এবং নির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বারটির লাইসেন্স, মদ বিক্রির বৈধতা এবং সার্বিক কার্যক্রম দ্রুত তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের সত্যতা পেলে অবিলম্বে বারটির কার্যক্রম বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি উঠেছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST