
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করে হাজিপুর, লাঠিকইনা, জঙ্গল ও নতুনবাজার এলাকায় নৌকা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব চাঁদা উত্তোলনের নেপথ্যে রয়েছেন আতিক নামে এক ব্যক্তি, যার নেতৃত্বে রয়েছে একটি কথিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’।
অভিযোগ রয়েছে, নদীপথে বালু পরিবহনকারী নৌকাগুলো এসব এলাকায় প্রবেশ বা চলাচলের সময় আটকে প্রতি নৌকা থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে নৌকার শ্রমিক ও চালকদের ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—ইউনিয়ন পরিষদের নামে যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তার সরকারি অনুমোদন, ইজারা বা বৈধ রশিদ রয়েছে কি না। কারণ সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায় করলে সেটি বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এর আগে গোয়াইনঘাটে ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে নৌকা আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় সদর ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় নৌকা আটকে শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠে আসে। ওই সময় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, অন্য ইউনিয়নের বৈধ রশিদ থাকা সত্ত্বেও কেউ চাঁদা দাবি করলে তা অবৈধ হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অর্থ আদায় নয়—এলাকায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে আতিকের নেতৃত্বাধীন কথিত বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীপথে নৌকা চলাচল থেকে শুরু করে বালু পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস অনেকেরই নেই। কারণ চাঁদা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কথা বললে পরবর্তীতে হয়রানি বা হামলার আশঙ্কা থাকে।
গোয়াইনঘাটের হাজিপুর এলাকায় বালু উত্তোলনকে ঘিরে প্রশাসনের অভিযান ও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ আগেও সামনে এসেছে। গত ৩০ জুন প্রশাসনের অভিযানে হাজিপুর, লাঠি গ্রাম ও নতুনবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় ড্রেজার ও বালুবাহী নৌকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করে নৌকা প্রতি ৩ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—বালু পরিবহনকে ঘিরে কি গড়ে উঠেছে আলাদা কোনো চাঁদা সিন্ডিকেট?
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের নামে কোথাও অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের কাছে ইজারা, সরকারি অনুমোদন ও বৈধ রশিদ দেখতে চাওয়া উচিত। পাশাপাশি নৌকা প্রতি ৩ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সত্য হলে কার নির্দেশে, কী খাতে এবং কোথায় সেই অর্থ যাচ্ছে—তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যৌথভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে প্রকৃত ইজারা বা সরকারি ফি থাকলে তার হার, আদায়ের নিয়ম ও রশিদ প্রদানের ব্যবস্থা জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে আতিকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
প্রশ্ন এখন একটাই—ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করে যদি সত্যিই নৌকা প্রতি ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থের বৈধ ভিত্তি কী এবং এর হিসাবই বা কোথায়?
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST