
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের সূত্র ধরে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে। তবে সন্তানের জন্মের পরই নেমে আসে টানাপোড়েন, যার জেরে ঘটে বিচ্ছেদ। হাজারীবাগের বহুল আলোচিত ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা জুঁই ও তাঁর সাত মাস বয়সী ছেলেসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মাঝে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড একটি তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। লিগ্যাল এইডের শুনানিতে শিশুটিকে আপাতত তার কিশোরী মায়ের জিম্মায় রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও জুঁইয়ের ওপর দেওয়া হয়েছে এক বিশেষ শর্ত—শিশুর সঠিক পরিচর্যার স্বার্থে জুঁই কোনোভাবেই ফেসবুক, টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না।
ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মঙ্গলবার শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তাকে মায়ের সান্নিধ্যে রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিচারপ্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়; শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব কার কাছে যাবে, সে বিষয়ে মামলাটি বর্তমানে পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ঘটনার পটভূমি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে টিকটকের মাধ্যমে শাকিল মিয়ার সঙ্গে জুইয়ের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে কোলজুড়ে নতুন সন্তান আসার পর থেকেই তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং সন্তানের দায়িত্ব ও আনুষঙ্গিক বিরোধের জেরে একপর্যায়ে তাদের সংসার ভেঙে যায়।
আইনজীবীদের মতে, একজন অল্পবয়সী মায়ের হাতে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো আসক্তি ও বিভ্রান্তি থেকে জুঁইকে দূরে রাখার এই অভিনব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করছে জুঁইয়ের কোলজুড়ে থাকা শিশুটির স্থায়ী ভবিষ্যৎ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST