
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় একটি নারী হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক রাজন লাল সরকারকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি এবং ময়মনসিংহ শহর ছাড়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। জীবনের নিরাপত্তা ও সুবিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ময়মনসিংহের ডিআইজি, পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর (২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টায় ময়মনসিংহ শহরের একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তির সাথে রাজন লাল সরকারের কথা কাটাকাটি হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর (সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিটে) ০১৬২০-৬০৮০০০ নম্বর থেকে তার মোবাইলে কল করা হয়। ফোনে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে ময়মনসিংহ শহর ছাড়তে বাধ্য করার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক রাজন লাল সরকারের দাবি, নারী হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে পেশাগত ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তাকে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘ভারতীয় চ্যানেলে খবর সরবরাহকারী’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট সাংবাদিক রাজন লাল সরকার কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এসআই তার বাসায় গেলে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের ফাঁড়িতে যোগাযোগ করতে বলেন। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফাঁড়িতে উপস্থিত না হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে ফোনে পুনরায় শহর ছাড়ার হুমকি ও চাঁদা দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ ও অনুসন্ধানের জন্য যাদের নাম অভিযোগে আনা হয়েছে, তারা হলেন—
১. ননী সেন (ননী গোপাল)
২. লিটন (সম্পাদক, সাপ্তাহিক আবির)
৩. পার্থ সারথী সিংহ আপেল
৪. দুকুল (বিভাগীয় যুগ্ম আহ্বায়ক, শ্রমিক দল)
তবে সাংবাদিক রাজন লাল সরকার স্পষ্ট করেছেন, উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি একই মাত্রার অভিযোগ তুলছেন না। তবে ননী গোপালের পূর্বে তার বাসায় যাওয়া, কার সাথে তারা যোগাযোগ রাখছেন এবং নারী হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশের পর হুমকির ঘটনার নেপথ্যে তাদের কোনো যোগসূত্র বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাজন লাল সরকার বলেন, “সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে যদি প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি ও শহর ছাড়ার চাপের মুখে পড়তে হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। এটি শুধু আমার একক নিরাপত্তা নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।”
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হুমকির জন্য ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি ট্র্যাকিং করে কলের উৎস শনাক্ত, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST