সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত অঞ্চলে ভারতীয় চোরাই পণ্যের অবৈধ সিন্ডিকেট ও চোরাচালানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এখন শামসুদ্দিন কালা ওরফে ‘শ্যাম কালা’-এর হাতে।আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ২ নং পশ্চিম জাফলং ও সোনারহাট সীমান্ত গলিয়ে প্রতিদিন দেশে ঢুকছে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যের মূল কারিগর ও ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কলকাঠি নাড়ছেন এই শ্যাম কালা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে চিনি, কসমেটিকস, গরু, মহিষ ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট রুট গড়ে তুলেছে এই সিন্ডিকেট মাঝেমধ্যে পুলিশ ও বিজিবির বিশেষ অভিযানে চোরাই পণ্যবাহী গাড়ি ও এর চালকরা (বাহক) আটক হলেও মূল হোতা শ্যাম কালা সবসময়ই থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। অতি সম্প্রতি পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত এক চালক স্বীকার করেছেন যে, জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ চোরাই মালের প্রকৃত মালিক শামসুদ্দিন কালা। চুনোপুঁটিরা আইনের আওতায় আসলেও এই ‘রাঘববোয়াল’ কেন বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন,তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, শ্যাম কালা নিজেকে সীমান্তের অঘোষিত রাজা মনে করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ব্যবহার করে সীমান্তে অবৈধ ‘লাইনম্যান’ সেজে ব্যাপক চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার অনুমতি এবং নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা বা টোকেন ছাড়া সীমান্তে কোনো পণ্য চোরাচালান করা সম্ভব হয় না।
মাত্র এক দশক আগেও শামসুদ্দিন কালা ছিলেন গোয়াইনঘাটের একজন সাধারণ বারকী বা পাথর শ্রমিক। কিন্তু চোরাচালানের অন্ধকার জগতে পা রাখার পর তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় নাটকীয়ভাবে। সীমান্ত অপরাধ ও অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি এখন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন।নিজের অপরাধ সাম্রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত স্থানীয় রাজ নৈতিকপ্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার চেষ্টা করেন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের অবস্থানও বদলে নেন।
সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা জানান, গোয়াইনঘাটে চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হলে বাহকদের পাশাপাশি মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা জরুরি। সাধারণ পাথর শ্রমিক থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া এই সিন্ডিকেট প্রধান শ্যাম কালাকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গোয়াইনঘাট সীমান্তকে করমুক্ত ও নিরাপদ করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।