
লাকী আক্তার,ব্যুরো প্রধান সিলেটঃ
সিলেটের মাছুদিঘীর পাড়ে ক্যাসিনো অভিযানে গ্রেফতারকৃত জুয়াড়ি সাগর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ও ভিডিও ফুটেজে মুখ খুলতে শুরু করেছে। তার দেওয়া তথ্যে বেরিয়ে এসেছে এক বিশাল অপরাধ জগতের মানচিত্র। সাগর স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ক্যাসিনো বাণিজ্যের নেপথ্যে শুধু সে একা নয়, বরং যুবদল নেতা তাজনুরসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে।
পুরো সিলেট বিভাগে বিস্তৃত ক্যাসিনো নেটওয়ার্ক
ভিডিও ফুটেজে সাগরকে বলতে শোনা যায়, তাদের এই জুয়া ও ক্যাসিনো সাম্রাজ্য শুধু মাছুদিঘীর পাড়েই সীমাবদ্ধ নয়। পুরো সিলেট বিভাগ জুড়ে ছড়িয়ে আছে তাদের কয়েকশ এজেন্ট। সিলেট মহানগরী ছাড়িয়ে উপজেলা পর্যায়েও রয়েছে তাদের গোপন আস্তানা। এই বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি তাজনুর ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের হাতে।
ভিডিও ফুটেজে যা যা ফাঁস হয়েছে:এজেন্ট নিয়োগ: সিলেটের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তাদের বেতনভুক্ত এজেন্ট রয়েছে যারা সাধারণ মানুষকে জুয়ার নেশায় উদ্বুদ্ধ করে। তাজনুরের ভূমিকা: তাজনুর মূলত এই অবৈধ ব্যবসার ‘শিল্ড’ বা রক্ষক হিসেবে কাজ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশি ঝামেলা থেকে এই সিন্ডিকেটকে রক্ষা করাই তার প্রধান কাজ।
অর্থ লেনদেন: প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হয় এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে, যার একটি বড় অংশ যায় এই রাঘববোয়ালদের পকেটে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমকি ও তাজনুরের ভয় সাগরের এই স্বীকারোক্তি ভিডিওতে আসার পর থেকেই তাজনুর মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দৈনিক অভিযোগ বার্তা ও জাতীয় দৈনিক যুগ যুগান্তর পত্রিকায় এই নেটওয়ার্কের খবর আসার পর তিনি সাংবাদিকদের অপহরণ, খুন, এসব হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ভয় পাচ্ছেন যে, পুরো সিলেটের এজেন্টদের তালিকা ফাঁস হয়ে গেলে তার এই বিশাল সাম্রাজ্য ধসে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি সিলেটের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কেবল সাগরকে ধরলেই হবে না, ভিডিও ফুটেজে যাদের নাম এসেছে বিশেষ করে তাজনুরসহ পুরো সিলেট বিভাগের এজেন্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নতুবা সিলেটের যুবসমাজ এই মরণনেশা জুয়া থেকে মুক্তি পাবে না।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST