
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছাড়ার পরপরই গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। টিকিট বিক্রিতে কালোবাজারি ও অবৈধ মজুদদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পেয়ে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করার পর পিবিআইকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে পিবিআই সিলেট কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আহাদ জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তিনি ইতোমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকা রুটে উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা ও পারাবত এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম রুটে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস চলাচল করে। এসব ট্রেনের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালে আদালতের নজর কারে।
অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যে সব টিকিট উধাও হয়ে যাওয়াকে স্বাভাবিক মনে না করে, এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্রের কালোবাজারি ও মজুদদারি থাকতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ দেন বিচারক। এরই প্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট গায়েব হওয়ার বিষয়ে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, নিয়ম অনুযায়ী রেলের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয় এবং নির্দিষ্ট অংশ কাউন্টার থেকে দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থাপনা হওয়ায় এতে স্থানীয় স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই বলে তিনি দাবি করেন।
পিবিআই সিলেট জানায়, টিকিটিং সিস্টেমের কারিগরি দিক, টিকিট ক্রয়ের আইপি অ্যাড্রেস এবং কালোবাজারি চক্রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখে দ্রুতই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST